ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কেন্দ্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

খুলনা প্রতিনিধি:

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার ১নং জলমা ইউনিয়নের নিজ খামার এলাকায় সাদেক হোসেন পাঞ্জেখানা মসজিদ সংলগ্ন একটি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটির দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বেগম নিয়মিতভাবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কেন্দ্র পরিচালনা করছেন না। প্রকল্প নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত নেই এবং পাঠদান কার্যক্রমও শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বেগমের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, তিনি সাধারণত সকাল ৯টা বা ৯টার পর থেকে পাঠদান শুরু করেন এবং তা চলে সকাল ১১টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে দেরিতে ক্লাস শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা মডেল কেয়ারটেকার এবং ফিল্ড সুপারভাইজার অবগত আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে বন্ধ থাকে এবং অধিকাংশ সময় কোনো পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। আশপাশের নারী-পুরুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক দিন ধরেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই এবং কেন্দ্র কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে শিক্ষিকার স্বামী মাওলানা আব্দুল গাফফার বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর খুলনা জেলার রুপসা উপজেলার একজন ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে রূপসা উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি প্রকল্পের আওতায় দায়িত্বে থেকে কিভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব হলো। সংশ্লিষ্ট এলাকায় তার বাড়িতে বর্তমানে টাইলসসহ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বটিয়াঘাটা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিল্ড সুপারভাইজারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বেগম আমাকে কোনো ধরনের ছুটির বিষয়ে অবহিত করেননি এবং আমিও তাকে কোনো ছুটি প্রদান করিনি। জেলা অফিস থেকে ছুটি নেওয়া হয়েছে কিনা সেটিও আমার জানা নেই। এছাড়া তিনি সকাল ৯টা বা সাড়ে ৯টা থেকে কেন্দ্র পরিচালনা করেন এমন কোনো তথ্যও আমাকে জানানো হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।

মন্তব্য করুন